সোমবার ১৯ অক্টোবার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ

মেহমেদ মেরাজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫২ এ.এম

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত, শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

১৯ বছর পর মুক্ত পরিবেশে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো জাতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এবার গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টায় মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন এবং ৫ মিনিট পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অতঃপর তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিরোধী দল জামায়াতের আমীর এনসিপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রাতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সংগঠন পর্যায়ক্রমে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভেসে ওঠে কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। গণতান্ত্রিক উন্মুক্ত পরিবেশে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের জাতি বিনা বাধায় স্মরণ করে। দিবসটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও স্মরণসভার পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, সিপিবি, বাসদ, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আলোচনা ও স্মারণসভার আয়োজন করে।

ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত সরকারের ২ বছর এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছর ধরে জাতীয় দিবসগুলো নিয়ন্ত্রিত ছিল। ভাষা শহীদ দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কার্যত ‘মুজিব বন্দনা’য় পালিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব দিবসে সাধারণ মানুষ এমনকি সব রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষ নিজেদের মতো করেই পালন করতেন। কারণ জাতীয় দিবসগুলো এক ব্যক্তির বন্দনা মানুষ মেনে নিতে পারতেন না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এবার দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্ত পরিবেশে, নিয়ন্ত্রণহীনতায় ভয়মুক্ত চেতনায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছেন। এই প্রথম ক্ষমতাসীন দলের পরেই জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এমনকি এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রতি বছর বাংলা একাডেমির বইমেলার মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বইমেলায় মানুষের ঢল নেমেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার বইমেলা হয়নি। কিন্তু ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের কমতি ছিল না। বরং আবালবৃদ্ধবনিতার ঢল নেমেছিল। এটা যেন ভাষা শহীদদের প্রতি লাখো মানুষের প্রাণের স্পন্দন।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের শাসনামলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরুর পর এটাই প্রথম কোনো জাতীয় দিবস পালন। নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই দলমত নির্বিশেষে সবাই উন্মুক্ত পরিবেশে দিবসটিতে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অথচ অতীতে দীর্ঘ দেড় যুগ জাতীয় দিবসগুলোতে ‘মুজিব বন্দনার বাধ্যবাধকতা’ থাকতো। এমনিতেই আওয়ামী লীগ ও তাদের অলিগার্ক ছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতে অন্যরা আমন্ত্রণ পেতেন না; আবার সাধারণ মানুষ জাতীয় দিবসে কেবল শেখ মুজিবদের স্মরণ করতে আগ্রহী না হওয়ায় অনুষ্ঠানে না গিয়ে নিজেদের মতো করে পালন করতেন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। নতুন সরকার গঠনের সপ্তাহ না পেরুতেই মুক্ত পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হলো। বাংলা ভাষার জন্য ’৫২ সালে যারা প্রাণ দিয়েছেন সেই শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে জাতি। দিবসটিতে হাজারো মানুষ খালি পায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরে যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোর থেকেই প্রভাতফেরি করে সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধার ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা কয়েকজন জানান, এতদিন আওয়ামী লীগ জাতীয় দিবসগুলো কুক্ষিগত করে ‘মুজিব বন্দনা’র বাধ্যবাধকতা করায় নিজেদের মতো করে দিবসগুলো পালন করেছি। এবার ফ্যাসিস্টমুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নির্বাচিত সরকারের সময় মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে হাজির হয়েছি।

বিশেষ সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজানুর রহমান প্রমুখ। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন-এর নেতৃত্বে পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ শ্রদ্ধা জানান।

এরপর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, র‌্যাব-১২, জেলা বিএনপি, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে মহান ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত না হওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পাবলিক লাইব্রেরি সম্মুখে, পুষ্পস্তবক অর্পণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। রাজশাহী সোনাদিঘির পাড়ে নতুন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এর আগে তিনি শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সরকারিভাবে ‘একুশ: জাতীয় জাগরণের প্রেরণা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ও রাজশাহী জেলা পরিষদ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওছার হাবীব, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে. এম আনোয়ার হোসেন, প্রধান সহকারী এস. এম. আল মতিন প্রমুখ।

অন্যদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন দিবস পালন করে। শ্রদ্ধা জানান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা করা হয়েছে। বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বগুড়ার সম্পাদক রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক মির্জা সেলিম রেজা, মহসিন আলী রাজু, মতিউল ইসলাম সাদি, রাহাত রিটু, তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

কক্সবাজার ব্যুরো জানায়, কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের যৌথ উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। একুশের চেতনাকে ধারণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনায় নতুনত্ব আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

গতকাল কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান। সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফরের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী।
স্টাফ রিপোর্টার ,গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন.এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এমপি। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনি, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মো. ইসাহাক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

গতকাল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের জন্মস্থান জব্বার নগরে (সাবেক নাম পাচুঁয়া) গ্রামের বাড়িতে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের বাড়িতে উপজেলার কেন্দ্রীয় মিনারে পুস্পতর্বক অর্পণ করেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এন.এম . আবদুল্লাহ-আল-মামুন প্রমুখ।

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর থেকে জানান, মাদারীপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশসক জাহাঙ্গীর আলম। পরে মাদারীপুর-২ আসন থেকে বিজয়ী নবাগত সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, মাদারীপুর পৌরসভা, সিভিল সার্জন অফিস, মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলার স্থানীয় সরকার নিলুফা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হুসাইন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সিফাত উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমূল হুদা, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত আঞ্চলিক ভাষাগুলো সংরক্ষণ ও বিকাশে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। ভাষাগত মিশ্রণের ফলে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রামাণ্য নথি তৈরি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গতকাল লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে নানা ধরনের আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ভাষায় নানা সংমিশ্রণ ঘটেছে। ভাষাগত মিশ্রণের কারণে যে পরিবর্তন বা বিকৃতি তৈরি হয়েছে, তা গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। আমরা সে উদ্যোগ নেব।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণের বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নানা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। প্রত্যেকের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। এসব ভাষা যাতে হারিয়ে না যায় এবং তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, সে দায়িত্বও সরকার নেবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

পরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভাসহ একে একে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, প্রতি বছরের মত এবারও ভাষা শহীদদের স্বরণে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামে তালিমঘরে দিনব্যাপী বিনামূল্যে এ চিকিৎসা সেবার আয়োজন করে কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)। ক্যাম্পস-এর সভাপতি ও বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার এম এ সামাদ এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা ও জেলা বিএনপি পুস্পস্তবক অর্পণ করে।

সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গত শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় ‘মুক্তির সোপান’ শহীদ মিনারে তিনি এ শ্রদ্ধা জানান। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

শেরপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, শেরপুরে শহরের চকবাজারস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনভর নানা কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদনের সূচনা করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহà¦